কুমিল্লার দেবিদ্বারে দুই মেম্বার প্রার্থীর সংঘর্ষে আহত ১৫

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় পরাজিত মেম্বার প্রার্থী ফরিদ উদ্দিন সরকারে বাড়িতে মিষ্টি পাঠান বিজয়ী প্রার্থী। এরপর বিজয়ী মেম্বার আলম হাজারীর পক্ষে ঢোল, বাঁশিসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে বিজয় মিছিল বের হয়। এসময় সেখানে প্রতিপক্ষরা হামলা ও ভবনে ভাঙচুর চালায়। এ নিয়ে দুপক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের ছোটশালঘর গ্রামের বিজয়ী মেম্বার প্রার্থী আলম হাজারী ও পরাজিত প্রার্থী (সাবেক মেম্বার) ফরিদ উদ্দিন সরকারের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।

এদিকে এ ঘটনায় আলম হাজারী মেম্বারসহ ২০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনার পর কয়েকশত নারী-পুরুষ সমর্থক কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে তাদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন। এসময় সড়কের উভয়পাশে শতশত যানবাহন ও মালবাহী ট্রাক আটকা পড়ে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের ছোটশালঘর গ্রামে বিজয়ী মেম্বার আলম হাজারীর ঢোল, বাঁশিসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে বিজয় মিছিল নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে হঠাৎ প্রতিপক্ষের পরাজিত প্রার্থী (সাবেক মেম্বার) ফরিদ উদ্দিন সরকার ও তার ভাই বড়শালঘর ইউএমএ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শাহজাহান সরকার এবং আবিদ সরকারের বাড়ির দ্বিতল ভবনসহ তিনটি ভবনে হামলা চালায়।

এসময় ভাঙচুর, লুটপাটের ঘটনা ঘটায়। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হামলার নেতৃত্বদানকারী আলম হাজারী মেম্বার ও তার বড় ভাই শাহজাহান হাজারীসহ কয়েকজন সমর্থককে আটক করে। ওই সংবাদে আলম হাজারীর কয়েকশত সমর্থক দুপুর ১২টা থেকে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। ওই সময় তারা আটকদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারসেল নিক্ষেভ করে শত শত বিক্ষোভকারীকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।

ওই সময় বিক্ষোভকারীদের ইটপাটকেলের আঘাতে চার পুলিশসহ ১৫ জন আহত হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেবিদ্বার, মুরাদনগর, বাঙ্গরা বাজার, বুড়িচং, ব্রাক্ষণপাড়া থানা পুলিশের সঙ্গে বিপুল সংখ্যক দাঙ্গা পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রামের প্রবেশ পথে পুলিশ চৌকি বসানো হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, আহত পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলাম, কনস্টেবল মফিজুল ইসলাম ও কনস্টেবল মৃত্যুঞ্জয় বর্মণকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অপরদিকে আলম হাজারীর সমর্থক শিপন হাজারী ও তাছলিমা বেগমকে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ছোটশালঘর গ্রামের আলমগীর হোসেন নামে এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে জানান, আলম হাজারীর পক্ষ থেকে পরাজিত মেম্বার প্রার্থীর ফরিদ উদ্দিনের বাড়িতে মিষ্টি পাঠানো হয়। এসময় মিষ্টি নিয়ে যাওয়া তামিম ও হোসেন নামে দুই সমর্থককে মারধর করার সংবাদে আলম হাজারীর বিজয় মিছিলে থাকা লোকজন ওই বাড়িতে হামলা চালায়।

আলমগীর আরও জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল ফোনে বিক্ষোভকারীদের সড়ক অবরোধ প্রত্যাহরের আহবান জানালে তারা অবরোধ তুলে নেন।

দেবিদ্বার থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক তাছলিমা তালুকদার জানান, ওই সংক্রান্তে কোনো তথ্যই আমার জানা নেই, তবে একজন এসআইসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত এবং হামলায় জড়িত ২০ জনকে আটক করা হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেবিদ্বার থানা পুলিশের বাহিরেও মুরাদনগর, বাঙ্গরা বাজার, বুড়িচং, ব্রাক্ষণপাড়া থানা পুলিশসহ প্রায় শতাধিক দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গ্রামগুলোর সুরক্ষায় সেখানে প্রতিটি সড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

     আরো পড়ুন....

পুরাতন খবরঃ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  

ফেসবুকে আমরাঃ