কুমিল্লায় ভোটের ফল পাল্টে নৌকার প্রার্থীকে পরাজিত ঘোষণার অভিযোগ

রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক ফল ঘোষণার পর নৌকার প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম সমর্থকদের নিয়ে বিজয় মিছিল করে বাড়িতে চলে আসেন। মিষ্টি বিতরণও করেন। কিন্তু দুই ঘণ্টা পর পুনরায় ঘোষিত ফলে জানতে পারেন বিদ্রোহী (আনারস) প্রার্থী মো. বিল্লাল হোসেনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। সপ্তম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে কুমিল্লার বুড়িচংয়ের ষোলনল ইউনিয়নের ফল ঘোষণা নিয়ে ঘটে এমন নাটকীয়তা। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারও দুইবার ফল ঘোষণার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লা নগরীর ঝাউতলার নিজ বাসায় সাংবাদিক সম্মেলন করে নৌকার প্রার্থী অভিযোগ করেন, ভোটের ফল পাল্টে তাকে পরাজিত ঘোষণা করা হয়েছে। এমন অভিযোগে পুনরায় ভোট গণনার দাবি জানিয়ে তিনি নির্বাচনের পরদিন প্রধান নির্বাচন কমিশনার, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক, আঞ্চলিক ও জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসারের কাছে অভিযোগ করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সপ্তম ধাপে গত ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ভোট গণনা শেষে বুড়িচং উপজেলার ৪ নম্বর ষোলনল ইউনিয়নের ফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার মো. আহসান হাবীব। এ দিন রাত পৌনে ১০টার দিকে তিনি চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী মো. সিরাজুল ইসলামকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। এ সময় তার প্রাপ্ত ভোট ৬ হাজার ২০৫ এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র (নৌকার বিদ্রোহী) প্রার্থী মো. বিল্লাল হোসেন ৬ হাজার ৬৬ ভোট পেয়েছেন বলে ঘোষণা করা হয়। ফল ঘোষণার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তার কাছেও এ ধরনের ভিডিও রয়েছে বলেও জানান তিনি। এরপর তিনিসহ তার নেতাকর্মীরা বিজয় মিছিল করে ফল ঘোষণার স্থান ছেড়ে যান। কিন্তু রাত সোয়া ১১টার দিকে রিটার্নিং অফিসারের পুনরায় ঘোষিত ফলে নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

নৌকার প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, দুই ঘণ্টা পর ফল পরিবর্তন করে ৬ হাজার ২০৫ ভোটের মধ্যে তার ১০০ ভোট (৬ হাজার ১০৫) কম দেখিয়ে এবং বিদ্রোহী প্রার্থীর ৬ হাজার ৬৬ ভোটের মধ্যে ১০০ ভোট বেশি দেখিয়ে (৬ হাজার ১৬৬)ফল ঘোষণা করা হয়।

রিটার্নিং অফিসার ও চান্দিনা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আহসান হাবীব জানান, ফল ঘোষণার সময় ভুলক্রমে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল, পরে ফলাফল যাচাই করে সংশোধনপূর্বক আনারস প্রতীকের প্রার্থীকে চূড়ান্ত বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আলম বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি, কিন্তু লিখিত অভিযোগ এখনও পাইনি, পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী মুমিনুল হক, সিরাজুল ইসলামসহ নেতাকর্মীরা।

সূত্রঃ সমকাল

     আরো পড়ুন....

পুরাতন খবরঃ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  

ফেসবুকে আমরাঃ